কাস্টমারের দিক থেকে দোকানের POS আর রেস্টুরেন্টের POS একই রকম দেখায়: একটা স্ক্রিন, একটা প্রিন্টার, একটা বিল। কাউন্টারের পেছনে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। মুদি দোকান তাকের জিনিস বিক্রি করে। রেস্টুরেন্ট এমন জিনিস বিক্রি করে যেটা তখনো তৈরিই হয়নি, রান্নাঘরকে বলতে হয় বানাতে, মনে রাখতে হয় কোন টেবিল বা কোন রাইডারের অর্ডার, তিন বন্ধু বিল ভাগাভাগি নিয়ে তর্ক করলে বিল তিন ভাগ করতে হয়, আর কেউ বারকোড স্ক্যান না করলেও চাল, মুরগি আর তেল স্টক থেকে কমাতে হয়। রেস্টুরেন্টে দোকানের POS বসালে প্রথম মাসটা সফটওয়্যারের সাথে যুদ্ধ করেই কাটবে।
এই লেখায় আমরা বলছি বাংলাদেশে রেস্টুরেন্ট POS সফটওয়্যারকে আসলে কী কী করতে হয়, কিচেন অর্ডার টিকেট থেকে মূসক ৬.৩ চালান পর্যন্ত, আর শেষে একটা ডেমো চেকলিস্ট দিচ্ছি, যেটা যে কোনো ভেন্ডরের উপর চালাতে পারেন, আমাদের উপরও। ধানমন্ডির ৪০ সিটের বাংলা-চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, চট্টগ্রামের GEC মোড়ের বার্গার কাউন্টার, বা মিরপুরের ক্লাউড কিচেন যেটা শুধু ডেলিভারি অ্যাপেই বিক্রি করে, সবার জন্য একই কথা।
রেস্টুরেন্ট POS কেন আলাদা জিনিস
তিনটা জিনিস রেস্টুরেন্টকে দোকান থেকে আলাদা করে, আর তিনটাতেই সাধারণ POS আটকে যায়।
অর্ডার মানেই বিক্রি নয়। দোকানে বিল তৈরি আর টাকা নেওয়া একই মিনিটে হয়। রেস্টুরেন্টে একটা অর্ডার খোলে, এক ঘণ্টা ধরে বাড়ে, আইটেম বাতিল হয় বা টেবিল বদলায়, শেষে টাকা হয়, কখনো কয়েকজন মিলে। POS-কে খোলা অর্ডার নিরাপদে ধরে রাখতে হবে, শুধু বিল "পার্ক" করলে হবে না।
রান্নাঘর আরেকজন ব্যবহারকারী। যে কখনো কাউন্টারে হাত দেয় না, তাকে ঠিকঠাক দেখতে হবে কী রাঁধতে হবে, কোন ক্রমে, কী বদলসহ ("পেঁয়াজ ছাড়া", "বেশি ঝাল")। এই যোগাযোগ চিৎকার আর হাতে লেখা চিরকুটে চললে ভুল খাবার আর ফ্রি-তে আবার বানানো লেগেই থাকে।
স্টক মানে রেসিপি, বারকোড নয়। আপনি ৫০০ গ্রাম মুরগি বিক্রি করেন না; চিকেন বিরিয়ানি বিক্রি করেন, যেটা মুরগি খরচ করে। প্রতিটি মেনু আইটেমের পেছনে রেসিপি না থাকলে POS বলতে পারবে না আজ যা বিক্রি হলো তার খাবারের খরচ কত, বা শুক্রবারের মধ্যে গরুর মাংস ফুরিয়ে যাবে।
নিচের সবকিছু এই তিনটা সত্য থেকেই আসে।
KOT আর কিচেন ডিসপ্লে: রেস্টুরেন্ট POS-এর প্রাণ
KOT মানে কিচেন অর্ডার টিকেট। ওয়েটার বা ক্যাশিয়ার অর্ডার কনফার্ম করলে POS রান্নাঘরে একটা টিকেট পাঠায়, চুলার পাশের ছোট থার্মাল প্রিন্টারে প্রিন্ট হয়ে, অথবা কিচেন ডিসপ্লে স্ক্রিনে (KDS)। ডেমোতে সবার আগে এটাই পরীক্ষা করুন।
ভালো KOT ব্যবস্থা দেখতে যেমন:
- স্টেশন অনুযায়ী আলাদা টিকেট। পানীয় যাবে বার প্রিন্টারে, গ্রিল যাবে গ্রিল স্টেশনে, ডেজার্ট কোল্ড সেকশনে। এক অর্ডার, কয়েকটা টিকেট, প্রতিটি স্টেশন শুধু নিজেরটা দেখে।
- নোট আইটেমের সাথেই যায়। "তেল কম", "ধনেপাতা ছাড়া", "হাফ প্লেট" রান্নাঘরের ভাষায় টিকেটে ছাপা হয়। বাবুর্চি ইংরেজি না পড়লে KOT-তে বাংলা দরকার।
- চলতি অর্ডারে যোগ। ৭ নম্বর টেবিল বিশ মিনিট পর আরও দুটো আইটেম নিল। রান্নাঘর শুধু নতুন আইটেমগুলো পাবে, "অতিরিক্ত" চিহ্নসহ, পুরো অর্ডার আবার নয়।
- বাতিল দেখা যায়, রেকর্ড থাকে। KOT যাওয়ার পর কোনো আইটেম বাতিল হলে রান্নাঘরে বাতিল টিকেট যাবে আর ম্যানেজারের অডিটে এন্ট্রি পড়বে। রেকর্ড ছাড়া বাতিল, এখান দিয়েই বন্ধুদের ফ্রি খাবার বেরিয়ে যায়।
- সময়ের হিসাব। KDS-এ বাবুর্চি আইটেম শেষ হলে "ডান" চাপেন, টিকেট সরে যায়, সিস্টেম সময় লিখে রাখে। মাসশেষে বোঝা যায় রাত ৯টায় কোন আইটেম রান্নাঘর আটকে দেয়।
KDS মানে রান্নাঘরে লাগানো ছোট অ্যান্ড্রয়েড স্ক্রিন বা ট্যাবলেট; KOT প্রিন্টার মানে ৫৮ বা ৮০ মিমি থার্মাল প্রিন্টার, বিল প্রিন্টারের মতোই। রান্নাঘরের প্রিন্টার ভাপ আর তেল থেকে দূরে রাখুন, কভার সস্তাতেই পাওয়া যায়। মডেল আর আনুমানিক দাম হার্ডওয়্যার পাতায়।
টেবিল, টেকঅ্যাওয়ে আর ডেলিভারি: এক স্ক্রিনে তিন মোড
শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট তিনটা চ্যানেল একসাথে চালায়। POS-কে আলাদা অ্যাপ বা আলাদা লগইন ছাড়াই এক মোড থেকে আরেক মোডে যেতে হবে।
| মোড | POS-কে যা ধরে রাখতে হবে | বাংলাদেশে সাধারণ ঝামেলা |
|---|---|---|
| ডাইন-ইন | টেবিল ম্যাপ, কতজন, কোন ওয়েটার, খোলা অর্ডার, বিল জোড়া ও ভাগ, টেবিল বদল | এক টেবিলে দুই পরিবার, বিল অর্ধেক-অর্ধেক নয়, আইটেম ধরে ভাগ |
| টেকঅ্যাওয়ে | কাস্টমারের নাম বা ফোন, কখন নেবেন, টোকেন নম্বর, আগে টাকা না নেওয়ার সময় | টোকেন এলোমেলো ডাকা, অগ্রিম দেওয়া অর্ডার কাউন্টারে ভুলে যাওয়া |
| ডেলিভারি (নিজের রাইডার) | ঠিকানা ও ফোন, কোন রাইডার, নগদে নেওয়া না অনলাইনে পাওয়া, রাইডারের হিসাব মেলানো | রাইডার ছয় অর্ডারের টাকা নিয়ে ফেরে, সাতটারটা নিয়ে একটা গল্প |
| ডেলিভারি (অ্যাপ) | অর্ডারের সোর্স ট্যাগ, কমিশন রেকর্ড, অ্যাপে পেমেন্ট না ক্যাশ অন ডেলিভারি, অ্যাপ অর্ডার থেকে KOT | স্টাফ Foodpanda অর্ডার আবার POS-এ টাইপ করে, তাই স্টক আর বিক্রি ভুল |
খুঁজুন এমন টেবিল ম্যাপ যেটা ফ্লোর সাজানো বদলালে নিজেই বদলাতে পারেন, ওয়েটারের হাতে ফোন বা হ্যান্ডহেল্ডে টেবিলে বসেই অর্ডার নেওয়া, আর আইটেম ধরে ও সমান ভাগে, দুভাবেই বিল ভাগ। টেকঅ্যাওয়েতে কাস্টমারের স্লিপ আর KOT দুটোতেই টোকেন নম্বর থাকলে কাউন্টারে তর্ক কমে।
Foodpanda, Pathao Food আর অন্য অ্যাপ: কী আশা করবেন
শহরের অনেক রেস্টুরেন্টের আয়ের বড় অংশ এখন ডেলিভারি অ্যাপ থেকে, আর ক্লাউড কিচেনের শতভাগই হতে পারে। সমস্যাটা কাজের: প্রতিটি অ্যাপ নিজের ট্যাবলেট বা মার্চেন্ট অ্যাপ দেয়, অর্ডার সেখানে আসে, আর কাউন্টারের কেউ সেটা আবার POS-এ তোলে যাতে রান্নাঘর আর স্টক জানে। ব্যস্ত রাতে এই দ্বিতীয়বার টাইপ দেরি হয়, বাদ পড়ে, বা ভুল হয়।
সামলানোর তিনটা স্তর আছে, সাধারণ থেকে আদর্শ:
- 1ট্যাগসহ হাতে এন্ট্রি। ক্যাশিয়ার POS-এ অর্ডার তোলেন আর সোর্স ট্যাগ করেন Foodpanda বা Pathao। ধীর, কিন্তু অন্তত বিক্রি, স্টক আর কমিশন চ্যানেল ধরে রেকর্ড হয়।
- 2মেনু আর দাম সিঙ্ক। POS থেকে মেনু বদল আর কোন আইটেম আছে-নেই অ্যাপে চলে যায়, তিনটা আলাদা মেনু পালতে হয় না। রান্নাঘরে খাসি শেষ হলে অ্যাপ থেকেও সরে যায়।
- 3সরাসরি অর্ডার আসা। অ্যাপের অর্ডার POS-এর অর্ডার লাইনে চলে আসে, নিজে থেকে KOT যায়, টিকেটে অ্যাপের অর্ডার নম্বর থাকে, কমিশন খাতায় পড়ে।
কোন ভেন্ডর কোন স্তর দেয় তা সময়ের সাথে বদলায় আর প্রতিটি অ্যাপের মার্চেন্ট API-র শর্তের উপর নির্ভর করে। তাই আপনার ভেন্ডরকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করুন: আজ কোন কোন অ্যাপ যুক্ত, একমুখী না দুমুখী, খরচ কত। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই, যেটা এখনো চালু করিনি, সেটার নাম লেখায় লিখব না। ডেমোতে জিজ্ঞেস করুন আর গত তিন মাস আগের নয়, আজকের উত্তরটা নিন। উত্তর যা-ই হোক, দিনের রিপোর্টে চ্যানেল ধরে বিক্রি আর কমিশন দেখানো বাধ্যতামূলক করুন, অ্যাপের বিক্রি আর ব্যাংকে আসা টাকার ফারাকটাই কমিশন, আর মাসশেষে সেটা মেলাতে হবে।

রেসিপি আর কাঁচামালের স্টক
রেস্টুরেন্ট POS-এ প্রতিটি মেনু আইটেমের নিচে একটা রেসিপি থাকা উচিত: উপকরণ আর পরিমাণের তালিকা, যেটা আইটেম বিক্রি হলেই খরচ হয়। ERP-র ভাষায় এটাকে বলে বিল অব মেটেরিয়ালস (BOM)। MondayPOS যেহেতু ERPNext-এর উপর তৈরি, কারখানা যে ব্যবস্থায় তৈরি পণ্যের হিসাব রাখে, সেই একই ব্যবস্থা এক প্লেট কাচ্চিতেও খাটে।
কাজে যা পান:
- কাঁচামালের স্টক নিজে থেকে কমে। ৪০টা চিকেন বিরিয়ানি বিক্রি হলে সিস্টেম মুরগি, চাল, ঘি আর মশলা কমিয়ে দেয়, POS-এর স্টোররুমের হিসাব আর আসল স্টোররুম একই কথা বলে।
- প্রতি আইটেমে, প্রতি দিনে খাবারের খরচ। যা বিক্রি হলো তার হিসাবমতো খরচ বনাম আসলে যা কিনলেন ও ব্যবহার করলেন; ফারাকটা অপচয়, বেশি পরিবেশন, নয়তো চুরি।
- কেনাকাটার পরিকল্পনা। কাঁচামালে কম-স্টক অ্যালার্ট আর রিঅর্ডার লেভেল, একই স্ক্রিন থেকে নিয়মিত সাপ্লায়ারকে পারচেজ অর্ডার। স্টক মডিউল।
- আধা-তৈরি আইটেম। সকালে ২০ লিটার গ্রেভি বানানো একটা প্রোডাকশন এন্ট্রি; আইটেমগুলো কাঁচা টমেটো-পেঁয়াজ নয়, গ্রেভি খরচ করে।
রেসিপি বসাতে পরিশ্রম লাগে: একবার কাউকে পরিমাণ মেপে দিতে হবে। যে ভেন্ডর রেসিপি না চেয়েই খাবারের খরচের রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে, সে এমন কিছু বলছে যা দিতে পারবে না। জিজ্ঞেস করুন রেসিপি ইমপোর্ট কীভাবে হয়, আর সাপোর্টে ফোন না করে নিজে রেসিপি বদলাতে পারবেন কি না।
রেস্টুরেন্টের বিলে ভ্যাট আর মূসক ৬.৩
বাংলাদেশে রেস্টুরেন্ট ভ্যাটের চোখে পড়ার মতো ব্যবসা: টেবিলে বসা কাস্টমারের হাতে ছাপানো বিল যায়, আর NBR-এর মাঠের কর্মকর্তারা সেটা জানেন। ভ্যাট নিবন্ধিত হলে প্রতিটি বিল মূসক ৬.৩ কর চালান হওয়া উচিত, আপনার BIN, কাস্টমারের জন্য ভাঙানো হিসাব আর ভ্যাটের টাকা আলাদা করে দেখানো, আর POS-এরই বিক্রয় রেজিস্টার দেওয়া উচিত, মাসশেষে এক্সেলে নয়।
ভ্যাট কনসালট্যান্ট আর POS ভেন্ডর, দুজনের সাথেই মিলিয়ে নিন:
- আপনার হার কত। বাংলাদেশে রেস্টুরেন্টের ভ্যাটের হার গত কয়েক বছরে একাধিকবার বদলেছে আর রেস্টুরেন্টের ধরন অনুযায়ী আলাদা (এসি না নন-এসি, হোটেলের সাথে যুক্ত কি না, ইত্যাদি)। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট সেবা ১৫ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড হারের নিচে: এসি রেস্টুরেন্টে সাধারণত ১০ শতাংশ আর নন-এসিতে ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভ্যাট সমন্বয়ের প্রস্তাব থেকে NBR রেস্টুরেন্ট সেবা বাদ দেওয়ার সময় এই অবস্থানই ছিল। হার আর ক্যাটাগরির সংজ্ঞা একাধিকবার বদলেছে, তাই এই অনুচ্ছেদের উপর ভরসা না করে নিজের ধরনটা ভ্যাট কনসালট্যান্টের সাথে মিলিয়ে নিন। POS-এ প্রতি আউটলেটে হার বসানো আর মেনু না ছাপিয়েই নির্দিষ্ট তারিখ থেকে হার বদলানো যাওয়া উচিত।
- দামের ভেতরে না বাইরে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মেনুতে ডাইন-ইনের দাম ভ্যাটসহ ছাপা থাকে, বিলে ভ্যাট উল্টো হিসাবে বের হয়। POS দুভাবেই পারে কি না আর NBR যেভাবে চায় সেভাবে ভাঙানো হিসাব ছাপে কি না দেখুন।
- প্রতিটি বিলে মূসক ৬.৩, ডেলিভারিসহ। অ্যাপের অর্ডার আর টেকঅ্যাওয়ে টোকেনও বিক্রি। চালান নম্বরের ধারা সব মোড মিলিয়ে একটানা হতে হবে।
- রেজিস্টার। ক্রয় ও বিক্রয় রেজিস্টার (মূসক ৬.১, ৬.২) আর মাসিক রিটার্নের তথ্য যে সিস্টেম বিল ছাপল সেখান থেকেই আসুক, যাতে অঙ্ক মেলে। হিসাব মডিউল।
- EFD/SDC। NBR নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসা আর এলাকায় ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস চালু করছে, রেস্টুরেন্ট তার মধ্যে আছে। আপনি আওতায় পড়েন কি না আর POS-এর সাথে EFD কীভাবে চলবে, এটা কনসালট্যান্ট আর ভেন্ডর দুজনেরই প্রশ্ন।
সার্ভিস চার্জ: ট্যাক্স নয়, কিন্তু বিলে থাকতে হবে
অনেক বসে-খাওয়ার রেস্টুরেন্ট সার্ভিস চার্জ যোগ করে, সাধারণত ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। POS-এর জন্য তিনটা জিনিস জরুরি:
- 1এটা আলাদা লাইন, প্রতি আউটলেট আর প্রতি মোডে আলাদা করে সেট করা যায় (টেকঅ্যাওয়ে বা ডেলিভারিতে সাধারণত নেওয়া হয় না)।
- 2সঠিক ভিত্তির উপর হিসাব হয় আর কনসালট্যান্টের পরামর্শমতো ভ্যাটের আগে বা পরে স্পষ্ট দেখানো হয়, কারণ এটা ভ্যাটের ভিত্তিতে প্রভাব ফেলে।
- 3আলাদা রিপোর্টে আসে, যাতে স্টাফদের মধ্যে ভাগ করতে পারেন (যদি সেটা আপনার নিয়ম হয়) আর কেউ জিজ্ঞেস করলে অঙ্কটা দেখাতে পারেন।
যে POS-এ সার্ভিস চার্জ মানে ক্যাশিয়ারের প্রতিবার হাতে টাইপ করা উল্টো ডিসকাউন্ট, সেখানে এক সপ্তাহেই হিসাব এলোমেলো হবে।
কারেন্ট বা নেট গেলে অফলাইন বিল
সন্ধ্যার লোডশেডিং আর রেস্টুরেন্টের পিক আওয়ার একই সময়ে। বিল প্রিন্টার, রাউটার আর রান্নাঘরের প্রিন্টার একসাথে বন্ধ হতে পারে; কাউন্টারে UPS থাকলেও ব্রডব্যান্ড লাইন প্রায়ই পড়ে যায়। শুধু-ক্লাউড রেস্টুরেন্ট POS ঠিক ভুল সময়ে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে।
অফলাইন-ফার্স্ট POS অর্ডারের লাইন, টেবিল ম্যাপ আর KOT রাউটিং কাউন্টারের মেশিনেই রাখে। তাই ওয়েটারের হ্যান্ডহেল্ড, ক্যাশিয়ারের স্ক্রিন আর রান্নাঘরের প্রিন্টার লোকাল নেটওয়ার্কে চলতে থাকে, নেট ফিরলে বিক্রি ক্লাউডে সিঙ্ক হয়। POS টার্মিনাল, রাউটার আর কিচেন প্রিন্টার এক UPS-এ রাখুন, এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে রেস্টুরেন্ট থামে না। যে কোনো ভেন্ডরকে রাউটারের তার খুলে একটা অর্ডার, একটা KOT আর একটা বিল দেখাতে বলুন।

একাধিক শাখা আর ফ্র্যাঞ্চাইজি
ব্র্যান্ড চললে বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট দ্বিতীয় শাখা খুলে বা ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে বাড়ে। তখন POS-এ হেড অফিসের স্তর লাগে:
- কেন্দ্রীয় মেনু, শাখার দাম। একটা মূল মেনু, শাখা ধরে দাম আর আছে-নেই আলাদা (গুলশান আর সাভারের শাখায় এক দাম কমই হয়)।
- সেন্ট্রাল কিচেন থেকে ট্রান্সফার। কমিসারি থেকে মেরিনেট করা মুরগি আর সস শাখায় যায় স্টক ট্রান্সফার হিসেবে, খরচসহ, তাই শাখার খাবারের খরচ সত্যিকারের।
- শাখাভিত্তিক লাভ-ক্ষতি। প্রতি আউটলেটের বিক্রি, মালের খরচ, অপচয় আর বেতন পাশাপাশি, এক লগইনে। একাধিক শাখা মডিউল।
- ফ্র্যাঞ্চাইজির দৃশ্যমানতা। ফ্র্যাঞ্চাইজি শুধু নিজের আউটলেট দেখে, ফ্র্যাঞ্চাইজর সব; রয়্যালটি ঘোষিত অঙ্কে নয়, আসল নিট বিক্রিতে হিসাব হয়।
- ভূমিকা অনুযায়ী অ্যাক্সেস। KOT যাওয়ার পর ক্যাশিয়ার ম্যানেজারের PIN ছাড়া বাতিল করতে পারে না; এক শাখার ম্যানেজার আরেক শাখা দেখে না।
ফাস্ট ফুড আর QSR-এও একই তালিকা, সাথে কাউন্টারে গতি আর কম্বো দাম। সেই ভার্সনের জন্য ফাস্ট ফুড POS, আর শুধু-ডেলিভারি ব্যবসার জন্য ক্লাউড কিচেন POS, যেখানে টেবিল ম্যাপ নেই, চ্যানেলের হিসাব মেলানোই পুরো কাজ।
খরচ কত
বাংলাদেশে একটা রেস্টুরেন্টের জন্য সাবস্ক্রিপশন সফটওয়্যার সাধারণত প্রতি আউটলেটে মাসে ৳১,৫০০ থেকে ৳৭,০০০; এককালীন লাইসেন্স আর কাস্টম রেস্টুরেন্ট সিস্টেম এর চেয়ে বেশি। MondayPOS-এর দাম প্রকাশিত: ছোট এক কাউন্টারের জন্য Lite মাসে ৳১,৫০০; Business ৳৩,৫০০ (POS, বিক্রি, ক্রয়, স্টক ও হিসাব; প্রতিটি বাড়তি আউটলেট ৳২,৪৫০); Growth ৳৬,৫০০-তে CRM, লয়ালটি, HR ও পেরোল যোগ হয় (বাড়তি আউটলেট ৳৪,৫৫০)। সবই বছরে বিল, ১৪ দিনের রিফান্ড সুবিধা। দাম দেখুন। এক আউটলেটের হার্ডওয়্যার, POS টার্মিনাল বা ট্যাবলেট, বিল প্রিন্টার, এক-দুটো কিচেন প্রিন্টার বা KDS স্ক্রিন, ক্যাশ ড্রয়ার, UPS, আলাদা এককালীন খরচ; দেশি বিক্রেতাদের বর্তমান দামের রেঞ্জ হার্ডওয়্যার পাতায়।
রেস্টুরেন্ট POS ডেমোতে যা জিজ্ঞেস করবেন
নিজের মেনু নিয়ে যান, লাইভ চালান।
- 1একটা টেবিল খুলুন, KOT পাঠান, দশ মিনিট পর দুটো আইটেম যোগ করুন, একটা বাতিল করুন। প্রতিবার রান্নাঘরে কী ছাপা হলো দেখান, আর বাতিলটা কোথায় রেকর্ড হলো।
- 2এই বিল তিনজনের মধ্যে আইটেম ধরে ভাগ করুন, একজন বিকাশ, একজন নগদ, একজন ক্যাশ। দিনশেষের হিসাব দেখান।
- 3রাউটারের তার খুলুন। অর্ডার নিন, KOT পাঠান, বিল প্রিন্ট করুন।
- 4সার্ভিস চার্জসহ ডাইন-ইন বিলের মূসক ৬.৩ চালান দেখান, আর একটা ডেলিভারি অর্ডারেরটা।
- 5মেনুর দামে হাত না দিয়ে এই আউটলেটের ভ্যাটের হার আগামী সোমবার থেকে বদলান।
- 6একটা Foodpanda অর্ডার তুলুন। কমিশন কোথায় যায়, মাসশেষে চ্যানেল রিপোর্ট কেমন দেখায়?
- 7একটা আইটেমের পেছনের রেসিপি দেখান, আইটেমটা বিক্রি করুন, কাঁচামালের স্টক কমা দেখান।
- 8সেন্ট্রাল কিচেন থেকে শাখায় ৫ কেজি গ্রেভি ট্রান্সফার করুন। শাখার খাবারের খরচে কী দেখায়?
- 9ম্যানেজারের PIN ছাড়া ক্যাশিয়ার কী কী করতে পারে?
- 10সেটআপে কত দিন লাগে, মেনু আর রেসিপি কে তোলে, আর দুই আউটলেটে প্রথম বছরের মোট খরচ কত?
শেষ কথা
বাংলাদেশে রেস্টুরেন্ট POS সফটওয়্যারের কাজ চারটা: রান্নাঘরে (সঠিক টিকেট সঠিক স্টেশনে, প্রতিবার), ফ্লোরে (টেবিল, টোকেন আর রাইডার মিলিয়ে খোলা অর্ডার ধরে রাখা, একটা বিলও না হারিয়ে), স্টোররুমে (বিক্রিকে কাঁচামালের খরচে বদলানো), আর NBR-এর সাথে (সঠিক হারে মূসক ৬.৩ চালান আর রেজিস্টার)। চারটাই করতে হবে রাউটারের তার খোলা অবস্থায়, আর পাঁচ শাখায় ঠিক এক শাখার মতো করে। ফিচারের তালিকা না পড়ে ডেমোতে এগুলোই পরীক্ষা করুন।
আপনার মেনু, ভ্যাট সেটআপ আর ডেলিভারি চ্যানেল MondayPOS কীভাবে সামলায় দেখতে ডেমো বুক করুন অথবা ফ্রি শুরু করুন। ইন্ডাস্ট্রি পাতা: রেস্টুরেন্ট, ফাস্ট ফুড, ক্লাউড কিচেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- রেস্টুরেন্ট POS আর দোকানের POS সফটওয়্যারে পার্থক্য কী?
- রেস্টুরেন্ট POS টেবিল বা টোকেন ধরে খোলা অর্ডার রাখে, প্রিন্টার বা কিচেন ডিসপ্লেতে KOT পাঠায়, বিল ভাগ ও জোড়া করে, আর রেসিপি দিয়ে কাঁচামাল কমায়। দোকানের POS বারকোড স্ক্যান করে সাথে সাথে বিল শেষ করার জন্য তৈরি। রেস্টুরেন্টে দোকানের POS বসালে সাধারণত রান্নাঘর আর স্টক কাগজে চলে।
- KOT কী, কিচেন ডিসপ্লে কি লাগবেই?
- KOT হলো অর্ডার কনফার্ম হলে POS যে কিচেন অর্ডার টিকেট পাঠায়। বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরে একটা ছোট থার্মাল প্রিন্টারই যথেষ্ট; কিচেন ডিসপ্লে স্ক্রিনে "ডান" চাপা আর সময়ের হিসাব যোগ হয়, যেটা বেশি ভলিউমের ফাস্ট ফুড আর ক্লাউড কিচেনে কাজে লাগে।
- বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট POS সফটওয়্যার কি Foodpanda আর Pathao-র অর্ডার সামলাতে পারে?
- অন্তত প্রতিটি অর্ডারের সোর্স আর কমিশন ট্যাগ করা যাওয়া উচিত, যাতে চ্যানেলের বিক্রি অ্যাপের পেমেন্টের সাথে মেলে। মেনু সিঙ্ক আর সরাসরি অর্ডার আসা নির্ভর করে ভেন্ডরের বর্তমান ইন্টিগ্রেশন আর অ্যাপের মার্চেন্ট API-র শর্তের উপর; ভেন্ডরকে জিজ্ঞেস করুন আজ কোন অ্যাপ যুক্ত, একমুখী না দুমুখী।
- বাংলাদেশে রেস্টুরেন্টের বিলে ভ্যাট কীভাবে ধরা হয়?
- ভ্যাট নিবন্ধিত রেস্টুরেন্ট মূসক ৬.৩ চালান দেয়, ভ্যাট আলাদা করে দেখানো। হার রেস্টুরেন্টের ধরনের উপর নির্ভর করে আর গত কয়েক বছরে বদলেছে, তাই নিজের হার ভ্যাট কনসালট্যান্টের সাথে মিলিয়ে নিন; POS-এ প্রতি আউটলেটে হার বসানো আর তারিখ ধরে বদলানো যাওয়া উচিত।
- সার্ভিস চার্জ আর ভ্যাট কি একই?
- না। সার্ভিস চার্জ রেস্টুরেন্ট নিজে যোগ করে, রাখে বা স্টাফদের মধ্যে ভাগ করে; ভ্যাট হলো ট্যাক্স, যা NBR-কে জমা দিতে হয়। POS-এ দুটো আলাদা লাইনে দেখানো আর আলাদা রিপোর্টে আসা উচিত। সার্ভিস চার্জ ভ্যাটের ভিত্তিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটা কনসালট্যান্টের প্রশ্ন।
- লোডশেডিংয়ে রেস্টুরেন্ট POS চলে?
- অফলাইন-ফার্স্ট হলেই চলে, অর্ডারের লাইন, টেবিল ম্যাপ আর KOT রাউটিং কাউন্টারের মেশিনে, পরে ক্লাউডে সিঙ্ক। টার্মিনাল, রাউটার আর কিচেন প্রিন্টার এক UPS-এ রাখুন, আর ভেন্ডরকে রাউটারের তার খুলে অর্ডার, KOT আর বিল দেখাতে বলুন।



