মুদি দোকানে এক প্যাকেট বিস্কুট হারালে ক্ষতি ত্রিশ টাকা। মোবাইলের দোকানে একটা সেট হারালে ক্ষতি পঁচিশ হাজার, আর সেটা ধরা পড়ে এক মাস পরে। এই এক লাইনেই বোঝা যায়, সাধারণ দোকানের জন্য বানানো সফটওয়্যার কেন মোবাইল বা ইলেকট্রনিক্সের কাউন্টারে টেকে না। ফোনের দোকানে "স্টক: ৬ পিস" কথাটার কোনো মানে নেই। মানে হয় তখন, যখন জানেন কোন ছয়টা, কোন IMEI, কোন দামে কেনা, কোন সাপ্লায়ার বিলে এসেছে, আর কোনটার ওয়ারেন্টি আর কত দিন বাকি।
এই লেখাটা সেই পার্থক্য নিয়ে। কেনার সময় আর বিক্রির সময় IMEI ও সিরিয়াল কীভাবে তোলা হয়, ডুপ্লিকেট ধরা পড়লে কী বাঁচে, ওয়ারেন্টির শুরুর তারিখ থেকে কীভাবে একটা ক্লেইম খুঁজে বের করা যায়, সার্ভিস জব আর লোনার সেট কীভাবে হিসাবে থাকে, কাস্টমার পুরোনো সেট এক্সচেঞ্জ দিলে কী হয়, আর সিরিয়ালওয়ালা মালের পাশে এক্সেসরিজ কীভাবে কাউন্টারের গতি না কমিয়ে চলে, সব এখানে আছে। যা যা বলা হয়েছে, তার প্রতিটি যেকোনো ভেন্ডরকে, আমাদেরসহ, আপনার নিজের মাল দিয়ে ডেমোতে করে দেখাতে বলবেন। ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল দোকানের বিস্তারিত।
সিরিয়ালওয়ালা মাল কেন আলাদা সমস্যা
সাধারণ দোকানে স্টক মানে একটা সংখ্যা। দশ বোতল শ্যাম্পুর একটার সাথে আরেকটার তফাত নেই, তাই সফটওয়্যারকে শুধু জানতে হয় দশটা আছে, আর একটা বিক্রি হলে এক কমাতে হয়। ইলেকট্রনিক্সে স্টক মানে একেকটা আলাদা জিনিসের তালিকা। দুটো সেট একই মডেল, একই রঙ হতে পারে, কিন্তু একটা মার্চের অর্ডারে এসেছে ৳২৪,৮০০ টাকায়, আরেকটা জুলাইয়ের অর্ডারে ৳২৩,৪০০ টাকায়; একটা বিক্রি হয়ে ফেরত এসেছে, আরেকটা এখনো বাক্স সিলড; একটার ওয়ারেন্টি বাকি এগারো মাস, আরেকটার তেরো।
সিরিয়ালওয়ালা একটা জিনিস বিক্রি হওয়ার মুহূর্তে চারটা কাজ একসাথে হতে হয়: ওই নির্দিষ্ট সেটটা স্টক থেকে বাদ যাবে, ওটার কেনা দামটা ওই বিক্রির সাথে জুড়ে যাবে, ওটার ওয়ারেন্টির ঘড়ি চালু হবে, আর নম্বরটা কাস্টমারের মোবাইল নম্বর ও বিল দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে। যে POS শুধু সংখ্যা বোঝে, সেটা প্রথম কাজটা করে, বাকি তিনটা করে না। এজন্যই মোবাইল দোকানে একদিকে POS, আরেকদিকে ওয়ারেন্টি খাতা, আরেকদিকে IMEI-এর Excel ফাইল চলে, আর মাসশেষে তিনটার হিসাব কখনো মেলে না।
সিরিয়ালওয়ালা বনাম সাধারণ স্টক
| কাউন্টারে যা সামলাতে হয় | সাধারণ স্টক (এক্সেসরিজ, ক্যাবল, চার্জার) | সিরিয়ালওয়ালা স্টক (সেট, ল্যাপটপ, টিভি, এসি) |
|---|---|---|
| স্টকের একক | বিনে রাখা একটা সংখ্যা | নিজের IMEI বা সিরিয়ালসহ একেকটা নির্দিষ্ট পিস |
| মাল বুঝে নেওয়া | কার্টন গুনে সংখ্যা বসানো | ক্রয় বিলের সাথে প্রতিটি নম্বর স্ক্যান বা টাইপ |
| বিক্রি | বারকোড স্ক্যান, সংখ্যা এক কম | ঠিক ওই পিসটা বাছা; নম্বরটা বিলে ছাপা হয় |
| খরচ ও লাভ | গড় দামেই মোটামুটি চলে | ওই পিসের আসল দাম; পিস-প্রতি লাভ দেখা যায় |
| ওয়ারেন্টি | সাধারণত রাখা হয় না | প্রতি পিসে শুরুর তারিখ, মাস, শেষ তারিখ |
| ফেরত বা বদল | একই মডেলের যেকোনো পিসেই হয় | শুধু ওই পিস; অবস্থা ও কারণ লেখা থাকে |
| শাখায় ট্রান্সফার | ২০ পিস পাঠানো | এই ২০টা নম্বর পাঠানো; গ্রহণকারী শাখা প্রতিটি মেলায় |
| স্টক গোনা | মোট মিলিয়ে দেখা | নম্বর স্ক্যান; সিস্টেম বলে দেয় কোনটা নেই |
| চুরি/ঘাটতির লক্ষণ | মোট আস্তে আস্তে সরে যায় | একটা নম্বরের হিসাব নেই, দাম ৳২৫,০০০ |
| দামের আচরণ | মাসের পর মাস একই | মডেল পুরোনো হলে দাম পড়ে; তাকে বসে থাকলে লোকসান |
শেষ দুই লাইন একসাথে পড়লেই পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার। মোবাইল দোকানে ঘাটতি মানে ধীরে ধীরে হিসাব সরে যাওয়া নয়, একটা নির্দিষ্ট দামি জিনিস নেই। আর কোন সেটগুলো তাকে বসে বুড়ো হচ্ছে সেটা না জানার দাম সত্যিকারের টাকা, কারণ পাঁচ মাস পড়ে থাকা সেট সাধারণত কেনা দামের চেয়ে কমে যায়। স্টক ট্র্যাকিং কীভাবে কাজ করে।
কেনার সময় IMEI আর সিরিয়াল তোলা
নিয়মটা শুরু হয় কাউন্টারে নয়, গুদামের দরজায়। ডিস্ট্রিবিউটরের মাল এলে তাকে ওঠার আগেই প্রতিটি পিসের নম্বর ক্রয় রসিদের সাথে তুলে রাখতে হবে। এটা করলে পরের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর থাকে। না করলে পরে কার্টন দেখে ইতিহাস আন্দাজ করতে হয়।
কাজের সফটওয়্যারে ক্রয় রসিদ খুলে একটা মডেলের লাইন বেছে নিয়ে যত পিস, তত নম্বর ঢোকানো যায়। নম্বরের সংখ্যা আর পরিমাণ না মিললে লাইনটা বন্ধ হবে না, এই একটা নিয়মই এই ব্যবসার সবচেয়ে পরিচিত ভুল ধরে ফেলে: বিলে লেখা বিশ, কার্টনে আছে ঊনিশ, আর বিশতম কাস্টমার আসার আগে কেউ টের পায় না।
স্ক্যান না টাইপ
ফোনের IMEI বাক্সের গায়ে বারকোড হয়ে থাকে, তাই স্ক্যান করাই দ্রুত এবং, আরও বড় কথা, নির্ভুল। রাত ৯টায় ক্লান্ত একজন কর্মী ১৫ ডিজিট টাইপ করলে ভুল হবেই, আর ভুল IMEI না-থাকার চেয়েও খারাপ, কারণ ওয়ারেন্টি ক্লেইম আটকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওটা দেখতে ঠিকই লাগে। যেখানে বাক্সে বারকোড আছে, সেখানে স্ক্যানার ব্যবহার করুন। লেবেল নষ্ট হওয়া পিস, পুরোনো স্টক আর সিরিয়ালওয়ালা পাওয়ার ব্যাংকের মতো জিনিসের জন্য টাইপ রাখুন বিকল্প হিসেবে।
টাইপ নিরাপদ করতে দুটো ছোট ব্যবস্থা। এক, ঘরটা যেন ডিজিট সংখ্যা আর ফরম্যাট যাচাই করে, ১৪ ডিজিট দিলে তখনই আটকে দেয়। দুই, ডুয়াল সিম সেটের বাক্সে দুটো IMEI থাকে; দোকান হিসেবে ঠিক করুন প্রথমটা তুলবেন, দুটোই তুলবেন, নাকি বড় করে ছাপা নম্বরটা, আর সবাই যেন একই নিয়ম মানে। আপনার নিয়মিত ডিস্ট্রিবিউটরের বাক্সে IMEI1 আর IMEI2 আলাদা বারকোড হিসেবে থাকে কি না করে নিন, কারণ ব্র্যান্ডভেদে এটা আলাদা।
ডুপ্লিকেট ধরা
স্টকে আগে থেকেই আছে এমন নম্বর সিস্টেম কিছুতেই নিতে পারবে না। এটা বাড়তি সুবিধা নয়, দরকারি। রেকর্ডে ডুপ্লিকেট IMEI থাকার মানে তিনটার একটা, আর তিনটাই গুরুত্বপূর্ণ: কেউ একই নম্বর দুবার টাইপ করেছে এবং একটা পিস এখন হিসাবের বাইরে; ফেরত আসা একটা সেট পুরোনো রেকর্ডের সাথে না মিলিয়ে আবার ঢোকানো হয়েছে; অথবা এমন একটা পিস তোলা হচ্ছে যেটা তাকে ওঠানোর আগে ভালো করে দেখা দরকার।
ডেমোতে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, ডুপ্লিকেট দিলে কী হয়। নিরাপদ আচরণ হলো একদম আটকে দেওয়া, সাথে বার্তায় বলা, নম্বরটা এখন কোথায় আছে: কোন শাখায়, কোন ক্রয় বিলে, স্টকে না বিক্রি হয়েছে না ফেরত এসেছে। কর্মী ক্লিক করে পার হয়ে যেতে পারে এমন সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়।
বিক্রি: একটা পিস বেরোয়, একটা ওয়ারেন্টি শুরু হয়
কাউন্টারে সিরিয়ালওয়ালা জিনিস বিক্রিতে বাড়তি লাগবে একটা স্ক্যান, বাড়তি একটা স্ক্রিন নয়। কর্মী মডেল স্ক্যান করবেন, সিস্টেম কোন পিস জানতে চাইবে, তিনি বাক্স স্ক্যান করবেন, বিলের লাইনে নম্বরটা বসে যাবে। প্রিন্টের নিয়ম এমন রাখুন যাতে IMEI বা সিরিয়াল কাস্টমারের বিলে ছাপা হয়, কারণ ক্লেইমের সময় কাস্টমার ওই কাগজটাই নিয়ে আসেন, আর দুই পক্ষের জন্যই এটা সবচেয়ে সস্তা প্রমাণ।
ওই স্ক্যানের পেছনে সিস্টেমের নিঃশব্দ কাজগুলো: ওই পিসের আসল কেনা দাম বিক্রির সাথে জোড়া, ওয়ারেন্টির ঘড়ি চালু করা, আর নম্বরটা কাস্টমারের নাম ও মোবাইল নম্বরের সাথে রাখা, যাতে পরে তিনটার যেকোনোটা দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়। দোকান ভ্যাট নিবন্ধিত হলে এই বিক্রিতেও ঠিকঠাক মূসক ৬.৩ চালান লাগবে; সিরিয়াল রাখলেই সেই দায়িত্ব বদলায় না।
ওয়ারেন্টি: শুরুর তারিখ, শর্ত আর খুঁজে পাওয়া ক্লেইম
ওয়ারেন্টি শুনতে সহজ, আসলে নয়, কারণ সাধারণত দুটো ওয়ারেন্টি একসাথে চলে। ব্র্যান্ড বা অনুমোদিত আমদানিকারক দেন কাস্টমারের কেনার তারিখ থেকে কয়েক মাসের ওয়ারেন্টি। দোকানও নিজের শর্ত দিতে পারে, কয়েক দিনের রিপ্লেসমেন্ট সুযোগ, বা গ্লাস প্রোটেক্টর লাগানোর গ্যারান্টি। এদের মেয়াদ আলাদা, দায়িত্বও আলাদা, আর দুটোই রেকর্ডে থাকা দরকার।
কমপক্ষে প্রতি পিসে থাকা চাই: ওয়ারেন্টি শুরুর তারিখ (সাধারণত বিলের তারিখ, মাল বুঝে নেওয়ার তারিখ নয়), কত মাস, শেষ হওয়ার তারিখ, আর কে দায়িত্ব নেবে। তাহলে ক্লেইম মানে শুধু খোঁজা: কর্মী IMEI বা কাস্টমারের ফোন নম্বর টাইপ করলেই মডেল, বিল, কত দিন বাকি আর ওই পিসে আগের ক্লেইমের ইতিহাস চলে আসবে।
এই ইতিহাসটাই বেশিরভাগ দোকানে থাকে না, অথচ এটাই তর্ক থামায়। ছয় সপ্তাহে তৃতীয়বার একটা সেট ফেরত এলে কাস্টমারকে কী দেবেন সেটা ঠিক করার আগে আগের দুইবারের তারিখ, সমস্যা আর সার্ভিস সেন্টারে গিয়েছিল কি না, সব এক স্ক্রিনে দেখা দরকার। ওয়ারেন্টি রিপ্লেসমেন্টে স্টকও ঠিকমতো নড়া চাই: নতুন যে পিস দিচ্ছেন তার নিজের সিরিয়াল স্টক থেকে বাদ যাবে, আর ফেরত আসা পিসটা আলাদা একটা জায়গায় থাকবে, বিক্রির তাকে নয়।

সার্ভিস জব আর লোনার সেট
যে দোকান রিপেয়ার নেয়, সে আসলে পাশাপাশি একটা ছোট সার্ভিস ব্যবসাও চালায়, তার নিজের ঝুঁকিসহ। কাস্টমার দিনের বিক্রির চেয়েও দামি একটা জিনিস হাতে দিয়ে একটা স্লিপ নিয়ে যান। ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ওই জিনিসের দায় আপনার।
কাজের সার্ভিস মডিউলে চারটা জিনিস থাকে। এক, জব রেকর্ড, কাস্টমার, ডিভাইস, সিরিয়াল, কী সমস্যা বলেছেন, সাথে কী কী এক্সেসরিজ জমা নিয়েছেন, আর আনুমানিক খরচ। দুই, কাউন্টার থেকে দেখা যায় এমন স্ট্যাটাস, জমা, সার্ভিস সেন্টারে, রেডি, ডেলিভারি হয়েছে, যাতে "ঠিক হয়েছে?" প্রশ্নের উত্তর টেকনিশিয়ানকে ফোন না করেই দেওয়া যায়। তিন, শেষে চার্জ আর ব্যবহৃত পার্টস, যাতে সার্ভিস আয় আর পার্টস খরচ অন্য বিক্রির মতোই হিসাবে আসে। চার, অনেক দিন পড়ে থাকা ডিভাইসের তালিকা, কারণ না-নিয়ে যাওয়া সেট প্রায় সব দোকানেই চুপচাপ জমে।
লোনার সেট আলাদা যত্ন চায়। কাস্টমারের ফোন সার্ভিসে থাকা অবস্থায় যদি একটা সেট ধার দেন, সেটাও কিন্তু সিরিয়ালওয়ালা মাল। ওটা ওই জবের বিপরীতে ইস্যু হিসেবে থাকবে, বাদ দিয়ে দেওয়া নয়, আর "এখন কোন কোন লোনার বাইরে আছে" এমন একটা তালিকা থাকবে। জিজ্ঞেস করুন লোনার ট্র্যাকিং সত্যিকারের ফিচার, নাকি শুধু একটা নোটের ঘর। আপনার ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সার্ভিস প্রোগ্রামে লোনার দেওয়ার কোনো শর্ত আছে কি না করে নিন।
পুরোনো সেট এক্সচেঞ্জ আর ট্রেড-ইন
বাংলাদেশে এখন পুরোনো সেট দিয়ে নতুন নেওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার, আর হিসাব সাধারণত এখানেই গোলমাল হয়। কাস্টমার পুরোনো সেট আনেন, দাম ঠিক হয়, তিনি বাকি টাকা দিয়ে নতুন সেট নেন। এখানে একটা নয়, তিনটা জিনিস লিখতে হবে: নতুন সেটের পুরো দামে বিক্রি, ঠিক করা দামে পুরোনো একটা সেট স্টকে আসা, আর শুধু পার্থক্যের টাকাটা জমা।
সিস্টেম যদি এটাকে "ডিসকাউন্টে বিক্রি" হিসেবে লেখে, তাহলে একটা পুরোনো সেট চুপচাপ খাতা থেকে হারিয়ে গেল, আর আপনার ডিসকাউন্টের হার বেশি দেখাল। পুরোনো পিসটার নিজের IMEI দিয়ে নিজের রেকর্ড লাগবে, "ইউজড" চিহ্ন লাগবে, অবস্থার একটা গ্রেড বা নোট লাগবে, আর সাধারণত আলাদা প্রাইস লিস্ট, কারণ পুরোনো মালের লাভের হিসাব নতুনের মতো নয়। অনেক দোকান পুরোনো সেট কিছুদিন রেখে তারপর বিক্রি করে; সেটা করলে সফটওয়্যারে তার জন্য একটা আলাদা জায়গা থাকা ভালো, ড্রয়ারে রাখা নয়।
দুটো সতর্কতা। এক, পুরোনো সেট কেনার সময় নিজের দোকানের নিয়ম অনুযায়ী পরিচয়পত্র যাচাই করুন আর রেকর্ডটা পিসের সাথেই রাখুন। দুই, ট্রেড-ইনে ভ্যাট কীভাবে বসবে সেটা অনুমান না করে ভ্যাট কনসালট্যান্টের প্রশ্ন হিসেবে রাখুন, আপনার নিবন্ধনের ধরনে মূসক ৬.৩ চালানে এক্সচেঞ্জ কীভাবে দেখাতে হবে, কনসালট্যান্টের সাথে করে নিন।
এক্সেসরিজ: সিরিয়ালওয়ালা মালের পাশে সাধারণ স্টক
বেশিরভাগ মোবাইল দোকানের লাভের ভালো একটা অংশ আসে কভার, গ্লাস প্রোটেক্টর, ক্যাবল, চার্জার, ইয়ারফোন আর মেমোরি কার্ড থেকে। এগুলো সাধারণ সংখ্যার স্টক, দ্রুত বিক্রি হয়, দাম কম, লাভের হার বেশি, আর এগুলোর জন্য সিরিয়াল নম্বরের স্ক্রিনে সময় নষ্ট করা যাবে না।
সঠিক ব্যবস্থা হলো একটাই প্রোডাক্ট লিস্ট, যেখানে প্রতিটি আইটেমে চিহ্ন থাকে, সিরিয়ালওয়ালা কি না, আর কাউন্টার সেই অনুযায়ী চলে: কভার স্ক্যান করলে সংখ্যা এক কম, শেষ; সেট স্ক্যান করলে সিস্টেম কোন পিস জানতে চায়। এরপর এক্সেসরিজের জন্য সাধারণ রিটেইলের ব্যবস্থাগুলো লাগবে, বারকোড ছাড়া আসা মালে নিজের লেবেল, দ্রুত চলা আইটেমে রি-অর্ডার পয়েন্ট, আর নতুন ফোনের সাথে গ্লাস-প্লাস-কভার কম্বো দিলে বান্ডল দাম। রিপোর্টে দোকানের দুই অংশ আলাদা করে দেখা যাওয়া চাই, কারণ সেটের বিক্রি আর এক্সেসরিজের লাভ দুই রকম আচরণ করে।
পিস-প্রতি লাভ, আর তাকে বুড়ো হওয়া স্টক
প্রতিটি সেটের নিজের কেনা দাম থাকে বলে ইলেকট্রনিক্সের সিস্টেম এমন একটা সত্য বলতে পারে, যা গড় হিসাবে ঢাকা পড়ে যায়: এই নির্দিষ্ট বিক্রিতে লাভ কত। এক কোয়ার্টারে একই মডেল তিন দামে কেনা হলে এটা জরুরি, আর একজন সেলসম্যানের ডিসকাউন্ট দেওয়ার ক্ষমতা যখন সারা দিনের এক্সেসরিজের লাভের চেয়ে বড়, তখন আরও জরুরি।
এখানে দুটো রিপোর্ট নিজের খরচ তুলে আনে। এক, মডেল ও কর্মী অনুযায়ী পিস-প্রতি লাভ, কোথায় ডিসকাউন্ট হচ্ছে দেখা যায়। দুই, সিরিয়াল ধরে স্টক এজিং, কোন পিস কত দিন ধরে পড়ে আছে। যে ব্যবসায় কয়েক মাস পরপর মডেলের দাম পড়ে, সেখানে ৯০ দিনের বেশি পড়ে থাকা বারোটা পিসের তালিকাই সিস্টেমের সবচেয়ে দামি পাতা, কারণ ওটা বলে দেয় এই সপ্তাহে কোনগুলোর উপর অফার দিতে হবে, নইলে পরের কোয়ার্টারে দাম কমিয়ে বেচতে হবে। রিপোর্ট ও BI।
EMI, কিস্তি আর বাকি
ফোন, ল্যাপটপ আর হোম অ্যাপ্লায়েন্সে এখন কিস্তিতে বিক্রি সাধারণ ব্যাপার। "EMI" নামে দুটো আলাদা জিনিস চলে, আর সফটওয়্যারকে দুটোর পার্থক্য বুঝতে হবে।
ব্যাংক বা কার্ড EMI-তে ফাইন্যান্স কোম্পানি আপনাকে টাকা দিয়ে দেয়, কাস্টমারের কিস্তি তারা সামলায়। আপনার দিক থেকে এটা সাধারণ বিক্রি, কার্ড টেন্ডারে পরিশোধ, তার সাথে নির্ধারিত ফি বাদ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ফি আর টাকা পাওয়ার সময়টা রেকর্ডে থাকা, যাতে দিনশেষের হিসাব মেলে। কনফিগার করার আগে প্রতিটি ব্যাংক বা ফাইন্যান্স পার্টনারের সাথে ফি-এর কাঠামো, কোন কোন কার্ড ইস্যুয়ার প্রযোজ্য আর কত দিনে টাকা আসে, সব করে নিন, কারণ পার্টনারভেদে শর্ত আলাদা এবং সময়ের সাথে বদলায়।
দোকান নিজে কিস্তি দিলে ঋণদাতা আপনি নিজেই। কাস্টমার আজ সেট নিয়ে গিয়ে কয়েক মাসে টাকা দেন। এটা বাকিতে বিক্রি, আর এর জন্য লাগে কাস্টমার লেজার, কবে কত দেওয়ার কথা তার তালিকা, আর মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা, বাস্তবে SMS। সাথে বাকির সাথে IMEI জোড়া থাকা দরকার, যাতে বাকির রিপোর্টে শুধু "৳১৮,০০০ বাকি" না দেখে কোন ডিভাইসের বিপরীতে বাকি সেটাও দেখা যায়। ডেমোতে বাকির এজিং রিপোর্ট দেখতে চান, আর জিজ্ঞেস করুন, মেয়াদ পেরোনো বাকি থাকলে কাউন্টারে ওই কাস্টমারকে আটকানো বা চিহ্নিত করা যায় কি না। হিসাব ও খাতা।

কাউন্টারে চুরি আর অনিয়মিত আমদানির ঝুঁকি
সিরিয়াল রাখা রিটেইলের সবচেয়ে শক্ত ঘাটতি-নিয়ন্ত্রণ, কারণ হারানো পিসের একটা নাম থাকে। তিনটা অভ্যাসে এর পুরো সুবিধা পাওয়া যায়।
এক, বছরে একবার পুরো স্টক না গুনে দামি লাইনগুলোতে সপ্তাহে একবার সিরিয়াল ধরে গোনা। চল্লিশটা সেট স্ক্যান করতে দশ মিনিট লাগে, আর জিনিস হারানো ও কেউ টের পাওয়ার মাঝের ফাঁকটা বন্ধ হয়ে যায়। দুই, তোলা সিরিয়াল বদলানো বা মোছার ক্ষমতা শুধু মালিক বা ম্যানেজার রোলে রাখুন, আর কে কী বদলেছে তার অডিট ট্রেইল রাখুন, কারণ হারানো পিস লুকানোর সহজতম উপায় হলো রেকর্ডটা এডিট করে দেওয়া। তিন, গোনার সময় যে নম্বর মেলে না, সেটাকে সেদিনই উত্তর দিতে হবে এমন প্রশ্ন হিসেবে নিন, চুপচাপ অ্যাডজাস্ট করে দেওয়ার লাইন হিসেবে নয়।
মাল কেনার দিক থেকে কাউন্টারের ঝুঁকি হলো কাগজবিহীন স্টক, অনুমোদিত চ্যানেলের বাইরে থেকে কেনা পিস, বা ব্যক্তির হাতে আসা সেট। প্রতিটি পিস সিস্টেমে সাপ্লায়ার বিলের সাথে বাঁধা থাকলে ব্যতিক্রমগুলো চোখে পড়ে, আর সেটাই বাস্তব প্রতিরক্ষা। হ্যান্ডসেট আমদানি, নিবন্ধন আর IMEI ডেটাবেজ নিয়ে নিয়ম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঠিক করে এবং একাধিকবার বদলেছে, তাই কোনো লেখা থেকে, এমনকি এই লেখা থেকেও, নিয়ম টুকে নেবেন না। দোকানের নীতিতে লেখার আগে বর্তমান BTRC শর্ত ও IMEI নিবন্ধনের দায়িত্ব একজন কমপ্লায়েন্স উপদেষ্টার সাথে মিলিয়ে নিন।
একাধিক শাখায় সিরিয়ালওয়ালা মালের ট্রান্সফার
একাধিক আউটলেট হলে ট্রান্সফারেই সিরিয়াল-নিয়ন্ত্রণ জেতা বা হারা হয়। ট্রান্সফারে নির্দিষ্ট নম্বর যাবে, সংখ্যা নয়। পাঠানো শাখা পিসগুলো বেছে পাঠাবে; গ্রহণকারী শাখা পৌঁছানোর পর প্রতিটি স্ক্যান করে নিশ্চিত করবে; যেটা স্ক্যান হয়নি সেটা "পথে আছে" অবস্থায় দেখা যাবে, যতক্ষণ না কেউ মীমাংসা করে।
এতে তিনটা কাজের জিনিস পাওয়া যায়: পথে থাকা মালের এমন একটা তালিকা যেটা চুপচাপ ভুলে যাওয়া যায় না; ওয়ারেন্টি ক্লেইম অন্য শাখায় এলে ওই পিস কোন শাখায় ছিল তার রেকর্ড; আর মিরপুরের কর্মী কাস্টমারকে কথা দেওয়ার আগেই দেখতে পান যে চাওয়া রঙের সেটটা, সিরিয়ালসহ, উত্তরায় আছে। ডেমোতে বলুন একটা পিস না পৌঁছানোর কারণে ট্রান্সফার আটকে দিতে, আর দেখুন সিস্টেম এরপর কী করে। একাধিক শাখার নিয়ন্ত্রণ।
ডেমোতে যা যা জিজ্ঞেস করবেন
ডেমোতে নিজের মাল নিয়ে যান, একটা বাক্স, একটা নষ্ট লেবেলওয়ালা পিস, একটা এক্সেসরিজ, আর এগুলো স্ক্রিনে করে দেখাতে বলুন।
- 1একটা ক্রয় বিলের বিপরীতে এক মডেলের পাঁচ পিস IMEI স্ক্যান করে বুঝে নিন। এবার চার পিস দিয়ে লাইনটা বন্ধ করার চেষ্টা করুন। কী হয়?
- 2আগে থেকেই আছে এমন একটা IMEI দিন। আটকানোর বার্তা আর "নম্বরটা এখন কোথায়" লেখাটা দেখান।
- 3একটা পিস বিক্রি করুন। ছাপা বিলে আর মূসক ৬.৩ চালানে IMEI দেখান।
- 4ওই IMEI দিয়ে খুঁজুন। এবার কাস্টমারের মোবাইল নম্বর দিয়ে খুঁজুন। দুটোতেই একই বিক্রি আসে?
- 5ওটার ওয়ারেন্টি ক্লেইম তুলুন, একটা লোনার সেট দিন, আর "বাইরে থাকা লোনার" তালিকা দেখান।
- 6একটা ট্রেড-ইন করুন: নতুন সেট বিক্রি, পুরোনো সেট ৳৮,০০০ টাকায় নেওয়া, পার্থক্যের টাকা জমা। স্টকে পুরোনো পিসটা আর হিসাবে পুরো বিক্রির অঙ্ক দেখান।
- 7দোকানের নিজের কিস্তিতে একটা বিক্রি করুন, আর IMEI-সহ বাকির এজিং রিপোর্ট দেখান।
- 8অন্য শাখায় তিন পিস পাঠান, দুই পিস বুঝে নিন। তৃতীয়টা কোথায় দেখা যায়?
- 9এক মডেলের গত কোয়ার্টারের পিস-প্রতি লাভ দেখান, আর ৯০ দিনের বেশি পড়ে থাকা পিসের তালিকা।
- 10ক্যাশিয়ার হিসেবে একটা সিরিয়াল মুছুন। এবার অডিট লগে ওটার এন্ট্রি দেখান।
শেষ কথা
মোবাইল আর ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা সাধারণ রিটেইলই, শুধু একটা বাড়তি নিয়মসহ: প্রতিটি দামি জিনিসের একটা নাম আছে, আর সিস্টেমকে সেই নামটা ব্যবহার করতে হবে। মাল বুঝে নেওয়ার সময় নম্বর তুলুন, ডুপ্লিকেট অসম্ভব করে দিন, বিলে নম্বর ছাপুন, বিক্রির তারিখ থেকে ওয়ারেন্টির ঘড়ি চালু করুন, তাহলে বাকি সব, অর্থাৎ ক্লেইম, রিপেয়ার, ট্রেড-ইন, বাকি, ট্রান্সফার আর ঘাটতি, তর্কের বদলে শুধু খুঁজে দেখার ব্যাপার হয়ে যায়। যেসব দোকান এভাবে চলে, তারা ওয়ারেন্টি খাতায় কম সময় দেয়, বিক্রিতে বেশি।
MondayPOS সিরিয়ালওয়ালা আর সাধারণ, দুই ধরনের স্টকই এক সিস্টেমে, সব শাখা মিলিয়ে চালায়, আর হিসাব ও মূসক ৬.৩ চালানও একই জায়গায়। উপরের ১০টি প্রশ্ন আপনার নিজের মডেলে চালিয়ে দেখতে চাইলে ডেমো বুক করুন অথবা ফ্রি শুরু করুন। দাম শুরু ছোট এক দোকানের জন্য প্রতি আউটলেটে মাসে ৳১,৫০০ থেকে, আর CRM, HR ও পে-রোলসহ প্ল্যান ৳৬,৫০০, বার্ষিক বিলিং, ১৪ দিনের রিফান্ড সুযোগসহ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- মোবাইল দোকানের সফটওয়্যারে IMEI ট্র্যাকিং মানে কী?
- মানে হলো, সফটওয়্যার প্রতিটি সেটের নিজস্ব ১৫ ডিজিটের IMEI আলাদা স্টক-পিস হিসেবে রাখে, ক্রয় বিল থেকে বিক্রি পর্যন্ত। ফলে যেকোনো ডিভাইস নম্বর দিয়ে খুঁজে দেখা যায় কোথা থেকে এসেছে, দাম কত ছিল, কে কিনেছেন আর ওয়ারেন্টি কত বাকি।
- POS সফটওয়্যার কি ইলেকট্রনিক্সের ওয়ারেন্টি রাখতে পারে?
- পারে, যদি ওয়ারেন্টি প্রোডাক্ট ধরে নয়, পিস ধরে রাখা হয়। খুঁজবেন: বিলের তারিখ থেকে ওয়ারেন্টি শুরু, কত মাস, শেষ হওয়ার তারিখ, আর একই সিরিয়ালে আগের ক্লেইমের ইতিহাস। ডেমোতে সামনেই একটা ক্লেইম তুলতে বলুন।
- ডুপ্লিকেট IMEI ঢোকা কীভাবে বন্ধ করব?
- মাল বুঝে নেওয়ার সময় টাইপ না করে স্ক্যানার ব্যবহার করুন, আর নিশ্চিত করুন সফটওয়্যার আগে থেকে থাকা নম্বর একদম আটকে দেয়, সাথে দেখায় কোন শাখা আর কোন ক্রয় বিলে ওটা আছে। কর্মী ক্লিক করে পার হতে পারে এমন সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়।
- পুরোনো ফোন এক্সচেঞ্জ কীভাবে লিখব?
- ডিসকাউন্ট নয়, দুইটা লেনদেন হিসেবে: নতুন সেট পুরো দামে বিক্রি, আর পুরোনো সেট ঠিক করা দামে নিজের IMEI ও "ইউজড" চিহ্নসহ স্টকে নেওয়া, কাস্টমার শুধু পার্থক্যটা দেন। ভ্যাটের হিসাব ভ্যাট কনসালট্যান্টের সাথে মিলিয়ে নিন।
- মোবাইল দোকানের সফটওয়্যারে EMI বা কিস্তি চলে?
- ব্যাংক বা কার্ড EMI সাধারণ বিক্রি, ওই টেন্ডারে পরিশোধ, পার্টনারের ফি রেকর্ডসহ। দোকানের নিজের কিস্তি হলো বাকিতে বিক্রি: কাস্টমার লেজার, IMEI-সহ কিস্তির তালিকা, SMS রিমাইন্ডার আর এজিং রিপোর্ট লাগবে। ফি ও টাকা পাওয়ার শর্ত প্রতিটি ফাইন্যান্স পার্টনারের সাথে মিলিয়ে নিন।
- এক সিস্টেমে এক্সেসরিজ আর সেট, দুটোই চলবে?
- চলবে। প্রতিটি প্রোডাক্টে "সিরিয়ালওয়ালা কি না" চিহ্ন থাকলে কভার-ক্যাবল স্বাভাবিক গতিতে স্ক্যান হবে, আর সেটের বেলায় সিস্টেম নির্দিষ্ট পিস জানতে চাইবে। রিপোর্টে সেটের বিক্রি আর এক্সেসরিজের লাভ আলাদা দেখা যাবে।



