MondayPOS
সব লেখা
দোকান পরিচালনা১২ মিনিটের পড়া·

ক্লাউড, অফলাইন নাকি হাইব্রিড POS: লোডশেডিংয়ে কোনটা টেকে?

ক্লাউড, অফলাইন আর হাইব্রিড POS-এর পার্থক্য সহজ ভাষায়। কারেন্ট বা নেট গেলে কাউন্টারে কী হয়, সিঙ্কের গোলমাল, ব্যাকআপ, UPS, খরচ আর একাধিক শাখা, তুলনার টেবিলসহ।

এম আর কিউ মতিনসিইও, Mondaysys Ltd.
শুধু ক্লাউড, শুধু অফলাইন আর হাইব্রিড, তিন ধরনের টিলের তুলনামূলক অলংকরণ।

বাংলাদেশের প্রতিটি POS কোম্পানি বলবে, "আমাদের সফটওয়্যার অফলাইনে চলে।" জিজ্ঞেস করুন, আসলে মানে কী, উত্তর তিন রকম হবে। কিছু সিস্টেম পুরোটাই সিঙ্গাপুর বা মুম্বাইয়ের সার্ভারে থাকে, প্রতিটি বিলের জন্য নেট লাগে। কিছু সিস্টেম পুরোটাই আপনার কাউন্টারের নিচের PC-তে থাকে, দোকানের বাইরে কখনো যায় না। আর কিছু সিস্টেম কাউন্টারে পুরো একটা কপি রাখে, সেখান থেকে বিল করে, আর নেট থাকলেই ডেটা ক্লাউডে পাঠিয়ে দেয়। এই তিনটাই ক্লাউড, অফলাইন আর হাইব্রিড POS। পার্থক্যটা বোঝা যায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে আটটায়, কারেন্ট গেল, রাউটার রিস্টার্ট নিল, আর সামনে ছয়জন ঝুড়ি হাতে দাঁড়িয়ে।

এই লেখায় তিনটা ধরন সহজ ভাষায় বুঝিয়েছি। কারেন্ট বা নেট গেলে প্রতিটিতে কাউন্টারে ঠিক কী হয়, তারপর পাঁচ বছরে যেসব জিনিস সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয়: সিঙ্কের গোলমাল, ডেটার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার, খরচ আর একাধিক শাখা। MondayPOS হাইব্রিড, অফলাইন-ফার্স্ট সিস্টেম, তাই আমাদের একটা মত আছে। কিন্তু কিছু দোকানের জন্য শুধু-ক্লাউডই ঠিক উত্তর, আর সেটা কোথায়, আমরা স্পষ্ট বলব।

এক মিনিটে তিনটা ধরন

ক্লাউড POS। সফটওয়্যার আর ডেটাবেস কোম্পানির সার্ভারে। আপনার কাউন্টারে শুধু একটা ব্রাউজার বা হালকা অ্যাপ, যা প্রতিটি কাজ নেটে পাঠায় আর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে। দোকানে জরুরি কিছু জমা থাকে না। বাংলাদেশে ছোট দোকানের জন্য বিক্রি হওয়া অনেক ওয়েব-ভিত্তিক POS এই ধরনের; অনুমান না করে কোম্পানির সাইট দেখুন।

অফলাইন (অন-প্রিমাইজ) POS। সফটওয়্যার আর ডেটাবেস দোকানের PC বা ছোট সার্ভারে ইনস্টল করা। নেট একদম না থাকলেও চলে। ব্যাকআপ, আপডেট আর হেড অফিসের রিপোর্ট, আপনার দায়িত্ব, নয়তো মেইনটেন্যান্স চুক্তিতে ভেন্ডরের। ২০১৮-র আগে বাংলাদেশে বেশিরভাগ POS এভাবেই বিক্রি হতো, অনেক ফার্মেসি আর পাইকারি দোকান এখনো এভাবেই চলে।

হাইব্রিড (অফলাইন-ফার্স্ট) POS। কাউন্টারে পণ্য, দাম, স্টক আর কাস্টমারের একটা চালু কপি থাকে, প্রতিটি বিল আগে সেখানেই সেভ হয়। নেট থাকলেই একটা সিঙ্ক প্রক্রিয়া বিল উপরে পাঠায় আর দাম-স্টকের পরিবর্তন নিচে নামায়। হেড অফিস সব দেখে ক্লাউডে; কাউন্টার কখনো ক্লাউডের জন্য বসে থাকে না। ERPNext-এর উপর তৈরি MondayPOS এভাবে কাজ করে; আরও কয়েকটি দেশি ভেন্ডরও অটো-সিঙ্কসহ অফলাইন মোডের কথা বলে।

নামের চেয়ে আচরণ জরুরি। তাই আচরণটাই দেখি।

কারেন্ট গেলে কাউন্টারে কী হয়

লোডশেডিং একসাথে দুটো জিনিস নেয়: আগে কারেন্ট, আর কয়েক মিনিট পর রাউটার আর রাস্তার ISP বক্স, যদি ওগুলোর নিজের ব্যাটারি না থাকে। দুটোকে আলাদা করে দেখুন, কারণ তিন ধরনের সিস্টেম আলাদাভাবে আটকায়।

অবস্থা ১: কারেন্ট গেছে, নেট আছে (আপনার UPS আছে)

ক্লাউড POSঅফলাইন POSহাইব্রিড POS
স্ক্রিনে বিল শেষ করা যায়?হ্যাঁ, PC, রাউটার আর ONU UPS-এ থাকলেহ্যাঁ, PC UPS-এ থাকলেহ্যাঁ, PC UPS-এ থাকলে
প্রিন্ট হয়?প্রিন্টার UPS-এ থাকলেপ্রিন্টার UPS-এ থাকলেপ্রিন্টার UPS-এ থাকলে
স্টক আপডেটসাথে সাথে, ক্লাউডেসাথে সাথে, লোকাল সার্ভারেসাথে সাথে লোকালে; সিঙ্কের পর ক্লাউডে

এই অবস্থায় তিনটাই ঠিক আছে, কাজটা করছে UPS। শিক্ষা: UPS কোনো সিস্টেমেই ঐচ্ছিক নয়; প্রশ্ন হলো কয়টা যন্ত্র কতক্ষণ টানতে হবে।

অবস্থা ২: নেট গেছে, কারেন্ট আছে

এখানেই পার্থক্য। ঢাকা বা চট্টগ্রামে ব্রডব্যান্ড ত্রিশ সেকেন্ড (রাউটার রিস্টার্ট) থেকে আধা দিন (রাস্তায় ফাইবার কাটা) পর্যন্ত যে কোনো সময়ের জন্য যেতে পারে।

ক্লাউড POSঅফলাইন POSহাইব্রিড POS
নতুন বিল শুরুনা, বা সীমিত "অফলাইন মোড" (নিচে দেখুন)হ্যাঁহ্যাঁ
দাম ও বারকোড খোঁজানাহ্যাঁহ্যাঁ, লোকাল কপি থেকে
কাস্টমারের বাকি দেখানাহ্যাঁহ্যাঁ, শেষ সিঙ্ক পর্যন্ত
মূসক ৬.৩ চালান প্রিন্টনাহ্যাঁহ্যাঁ
বিকাশ / নগদ পেমেন্ট এন্ট্রিনাহ্যাঁহ্যাঁ; পেমেন্ট নিজে অবশ্য কাস্টমারের ফোন নেটওয়ার্কে হয়
হেড অফিস বিক্রি দেখেপ্রযোজ্য নয়কেউ রিপোর্ট পাঠালেসিঙ্কের পর, নিজে থেকে

কিছু ক্লাউড POS-এ এখন ব্রাউজার-ক্যাশ করা "অফলাইন মোড" আছে, যাতে কয়েকটা বিল জমিয়ে রাখা যায়। ঠিকঠাক জিজ্ঞেস করুন: কয়টা বিল, আপনার পুরো পণ্য তালিকার বারকোড খোঁজা যায় কি না, সঠিক চালান প্রিন্ট হয় কি না, আর নেট ফেরার আগে ব্রাউজার ট্যাব বন্ধ হয়ে গেলে কী হয়। এই মোডগুলো কাজের থেকে সাজানো পর্যন্ত সব রকম হয়; রাউটার খুলে ডেমো দেখলেই বোঝা যায় কোনটা কী।

অবস্থা ৩: কারেন্ট আর নেট দুটোই গেছে, UPS নেই

সব সিস্টেম থামে। পার্থক্য হলো কারেন্ট ফিরলে কী পান। ক্লাউড POS-এ কাউন্টারে হারানোর কিছু নেই; আধা-করা বিলটা গেছে, কিন্তু ডেটাবেস ঠিক আছে। UPS ছাড়া ডেস্কটপ PC-তে অফলাইন POS সবচেয়ে ঝুঁকির: লেখার মাঝখানে হঠাৎ কারেন্ট গেলে লোকাল ডেটাবেস নষ্ট হতে পারে, আর শেষ ব্যাকআপ গত সপ্তাহের হলে সেই সপ্তাহটা আবার এন্ট্রি করতে হয়। হাইব্রিড POS-এ কাউন্টারে একই লোকাল ঝুঁকি, কিন্তু শেষ সিঙ্ক পর্যন্ত সব আগেই ক্লাউডে নিরাপদ, তাই হারানোর ভয় শেষ কয়েক মিনিটের বিলে, কয়েক দিনের নয়।

কাজের নিয়ম: হাইব্রিড বা অফলাইন POS-এ PC আর প্রিন্টার UPS-এ লাগে; ক্লাউড POS-এ PC, প্রিন্টার, রাউটার আর ONU, সব UPS-এ লাগে। ক্লাউডে বাঁচিয়ে রাখার যন্ত্র বেশি, কম নয়। কাউন্টার সাজানোর বিস্তারিত আমাদের অফলাইন POS গাইডে

সিঙ্কের গোলমাল: যেটা কেউ ডেমোতে দেখায় না

দুই জায়গা থেকে একে অন্যের সাথে কথা না বলে ডেটা লেখা গেলে, একদিন না একদিন একই প্রশ্নের দুটো উত্তর পাবেন। হাইব্রিডের আসল দাম এটাই, আর সৎ ভেন্ডর এটা অস্বীকার না করে কীভাবে সামলায় তা বুঝিয়ে বলবে। দোকানে যেসব ঘটে:

স্টক মাইনাসে চলে যায়। একই দোকানের দুই কাউন্টার নেট না থাকার সময় একই পণ্যের শেষ পিসটা বিক্রি করল। সিঙ্কের পর স্টক মাইনাস এক। ভালো হাইব্রিড সিস্টেম বিক্রিটা হতে দেয় (হাতে পণ্য ধরা কাস্টমারকে ফেরানো যায় না), মাইনাসটা লিখে রাখে, আর স্টকের লোকের জন্য একটা মিলানোর রিপোর্টে ফ্ল্যাগ করে। সেই রিপোর্ট দেখতে চান।

কাউন্টার অফলাইন থাকতে হেড অফিস দাম বদলাল। কাউন্টার পুরনো দামে বিল করেছে। ঠিক আচরণ: কাস্টমার যে দাম দিয়েছে বিল সেটাই থাকে, নতুন দাম পরের সিঙ্ক থেকে চালু, আর পরিবর্তনটা লগে থাকে। ভুল আচরণ: সিঙ্ক হওয়া বিলে চুপচাপ নতুন দাম বসে যায়, আর দিনশেষের হিসাব প্রিন্ট করা রসিদের সাথে মেলে না।

কাস্টমারের বাকির সীমা ছাড়িয়ে গেল। এক পাইকারি কাস্টমার এক ঘণ্টায় দুই শাখায় বাকিতে কিনল। দুই শাখাই দেখেছে সীমার নিচে। সিঙ্কের পর সীমার উপরে। সিস্টেমে পরের বার খুঁজলেই মোট বাকি দেখানো উচিত, আর কাউন্টার সীমা ছাড়াতে পারবে কি না সেটা আপনি ঠিক করে দেবেন।

একই চালান নম্বর দুবার। সবচেয়ে গুরুতর। মূসক ৬.৩ চালানের নম্বর ধারাবাহিক আর অনন্য হতে হয়। হাইব্রিড সিস্টেমকে এমনভাবে নম্বর দিতে হবে যাতে দুই কাউন্টারে কখনো এক না হয়, যেমন কাউন্টার-ভিত্তিক প্রিফিক্স বা আগে থেকে বরাদ্দ নম্বরের ব্লক, আর প্রিন্ট হওয়া চালানের নম্বর সিঙ্কের পর কখনো বদলানো যাবে না। ভেন্ডরকে নম্বরের নিয়ম দেখাতে বলুন, আর ভ্যাট অডিটর কী দেখবে তা বোঝাতে বলুন।

ক্লাউড POS-এ এসব কিছুই নেই, কারণ সত্যের একটাই কপি, এটা আসল সুবিধা। এক সার্ভারের অফলাইন POS-এও এক দোকানের ভেতরে একই কারণে নেই। হাইব্রিডকে এই ঘটনাগুলো দৃশ্যমানভাবে সামলে বিশ্বাস অর্জন করতে হয়।

সংযোগ ফিরলে অফলাইনে জমা বিলগুলো ক্রম মেনে সিঙ্ক হওয়ার অলংকরণ।

ডেটার নিরাপত্তা আর ব্যাকআপ

আপনার গত পাঁচ বছরের বিক্রি আর স্টক কোথায় আছে, আর কে হারাতে পারে?

ক্লাউড POS। ব্যাকআপ ভেন্ডরের দায়িত্ব, যেটা সাধারণত ভালো: তারা একাধিক জায়গায় স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ রাখে, আপনাকে ভাবতে হয় না। ঝুঁকিগুলো অন্য রকম। টাকা দেওয়া বন্ধ করলে বা কোম্পানি বন্ধ হলে পুরো ডেটা কাজের ফরম্যাটে নামাতে পারবেন? ডেটা দেশে নাকি বিদেশে রাখা, আর ভ্যাটের রেকর্ডের জন্য তাতে কিছু যায় আসে কি না? কোম্পানির আপটাইম কত, আর শেষবার সার্ভার বন্ধ হলে কী হয়েছিল?

অফলাইন POS। ডেটা পুরোপুরি আপনার, ঝুঁকিও পুরোপুরি আপনার। সাধারণ বিপদ আগুন বা চুরি নয়; চার বছরের মাথায় হার্ডডিস্ক নষ্ট হওয়া, আর ব্যাকআপের পেনড্রাইভ একই ড্রয়ারে। অফলাইন নিলে ন্যূনতম: প্রতিদিন স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ দ্বিতীয় যন্ত্রে, আর সপ্তাহে একটা কপি দোকানের বাইরে বা ক্লাউড ড্রাইভে।

হাইব্রিড POS। নকশাতেই দুটো কপি: কাউন্টার আর ক্লাউড। কাউন্টারের PC নষ্ট হলে অন্য PC-তে ইনস্টল করে লগইন করুন, পণ্য তালিকা আর ইতিহাস নেমে আসবে। ক্লাউডে পৌঁছানো না গেলে কাউন্টার চলতে থাকে। তবু ক্লাউডের মতো একই প্রশ্ন করুন: পুরো ডেটা কীভাবে বের করব? MondayPOS-এর ভেতরের ERPNext ডেটাবেস পুরোটা এক্সপোর্ট করা যায়; যে কোনো ভেন্ডরকে একই জিনিস দেখাতে বলুন।

হার্ডওয়্যার: UPS, লোকাল সার্ভার নাকি ল্যাপটপ

বাংলাদেশে "ক্লাউড সস্তা" হিসাব বেশিরভাগ এখানেই ভুল হয়, কারণ ক্লাউড কাউন্টারে ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি লাগে, কম নয়।

UPS। এক কাউন্টারের PC, মনিটর আর থার্মাল প্রিন্টারের জন্য ৬৫০–১২০০ VA লাইন-ইন্টারঅ্যাকটিভ UPS সাধারণত লোড অনুযায়ী ১০–৩০ মিনিট দেয়; ২০২৬ সালের আগস্টে Star Tech আর Ryans-এ এগুলোর দাম মোটামুটি ৳৩,৪০০–৭,০০০, ২০২৬ সালের আগস্টে শেষবার দেখার সময় 1200VA লাইন-ইন্টারঅ্যাকটিভ ইউনিট ছিল প্রায় ৳৬,৯০০–৭,০০০। ক্লাউড POS হলে রাউটার আর ONU-ও UPS-এ দিন (লোড ছোট, কিন্তু থাকতেই হবে), নয়তো ওগুলোর জন্য আলাদা মিনি-UPS কিনুন। আপনার এলাকায় ঘণ্টাখানেকের লোডশেডিং হলে UPS-এ হবে না; দোকানের জন্য এমনিতেই IPS বা জেনারেটর লাগবে, POS তার উপরেই চলবে।

লোকাল সার্ভার নাকি ল্যাপটপ। এক দোকানের অফলাইন POS সাধারণত একটা ডেস্কটপ PC-তে চলে, যেটাই কাউন্টার। তিন বা তার বেশি কাউন্টার হলে, বা ১০,০০০ পণ্য আর ব্যাচ ট্র্যাকিংওয়ালা ফার্মেসি হলে, কাউন্টার থেকে দূরে একটা ছোট আলাদা সার্ভার বা মিনি PC রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, আর কাউকে সেটা দেখাশোনা করতে হবে। হাইব্রিড POS-এ দোকানে কোনো সার্ভার লাগে না: প্রতিটি কাউন্টার একটা PC, ল্যাপটপ, বা কিছু প্রোডাক্টে অ্যান্ড্রয়েড টার্মিনাল; সার্ভার ভেন্ডরের ক্লাউডে। ল্যাপটপে ব্যাটারি আছে, এক কাউন্টারের দোকানের জন্য এটা কম-দামে-পাওয়া UPS। MondayPOS কীসে চলে দেখুন হার্ডওয়্যার পেজে; এটি হার্ডওয়্যার-অ্যাগনস্টিক, তাই পুরনো PC, স্ক্যানার আর প্রিন্টার সাধারণত কাজে লাগে।

প্রিন্টার আর স্ক্যানার। তিন ধরনে পার্থক্য নেই, একটা ব্যতিক্রম ছাড়া: ব্রাউজার দিয়ে প্রিন্ট করা ক্লাউড POS-এ আলাদা প্রিন্ট-হেল্পার অ্যাপ বা নেটওয়ার্ক প্রিন্টার লাগতে পারে, তাই প্রিন্টটা আলাদা করে পরীক্ষা করুন।

পাঁচ বছরের খরচ

লাইসেন্সের দামটা চোখে পড়ে। এক আউটলেটের পুরো ছবি মোটামুটি:

খরচের ইন্ডাস্ট্রিক্লাউড POSঅফলাইন POSহাইব্রিড POS
সফটওয়্যারমাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনএককালীন লাইসেন্স + বার্ষিক মেইনটেন্যান্স (AMC)মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন
সার্ভার হার্ডওয়্যারনেইPC বা ছোট সার্ভার, ৪–৬ বছরে বদলনেই
UPS / পাওয়ারPC + প্রিন্টার + রাউটার + ONUPC + প্রিন্টারPC + প্রিন্টার
ব্যাকআপঅন্তর্ভুক্তআপনার সময় বা পেইড AMCঅন্তর্ভুক্ত (ক্লাউড) + লোকাল কপি
আপডেটস্বয়ংক্রিয়ভিজিট বা রিমোট, কখনো ফি লাগেস্বয়ংক্রিয়
ইন্টারনেটবাধ্যতামূলক, দুটো ISP হলে ভালোঐচ্ছিকসিঙ্ক আর রিপোর্টে লাগে, বিলে নয়
বিপদে হারানো বিক্রিসবচেয়ে বেশিসবচেয়ে কমকম

বাংলাদেশে সাবস্ক্রিপশন POS সাধারণত প্রতি আউটলেটে মাসে মোটামুটি ৳১,০০০–৭,০০০; এককালীন অফলাইন লাইসেন্স মোটামুটি ৳২০,০০০–৮০,০০০ প্লাস AMC। MondayPOS-এর প্রকাশিত দাম প্রতি আউটলেটে মাসে ৳১,৫০০ (Lite), ৳৩,৫০০ (Business) আর ৳৬,৫০০ (Growth), বছরে বিল, ১৪ দিনের রিফান্ড সুবিধা। প্রথম বছরের মোট খরচ ধাপে ধাপে আমাদের দামের গাইডে

বেশিরভাগ দোকানের জন্য সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয় শেষ লাইনটা। মিরপুরের ব্যস্ত মুদি দোকানে এক সন্ধ্যার হারানো বিক্রি, এক বছরের সাবস্ক্রিপশনের দামের পার্থক্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।

একাধিক শাখা: যেখানে পার্থক্য সত্যিই বড়

এক দোকানে তিনটাই চালিয়ে নেওয়া যায়। ঢাকায় তিন শাখা আর চট্টগ্রামে এক শাখা হলে, সিস্টেমের ধরনই ব্যবসা হয়ে দাঁড়ায়।

ক্লাউড POS হেড অফিসকে এমনিতেই রিয়েল-টাইম দেখায়: এক ডেটাবেস, সব শাখা সেখানেই লেখে। দুর্বলতা: প্রতিটি শাখা তার নিজের নেটের মতোই নির্ভরযোগ্য। এক শাখায় ফাইবার কাটলে সেই শাখা থামে, বাকিরা নয়, কিন্তু সেটা থামে।

অফলাইন POS-এ প্রতিটি শাখা একটা দ্বীপ। স্টক ট্রান্সফার মানে ফোন আর Excel। একসাথে রিপোর্ট মানে রাতে কেউ হেড অফিসে ব্যাকআপ ইমেইল করছে। কিছু ভেন্ডর "হেড অফিস মডিউল" বিক্রি করে, যা প্রতিটি শাখার সার্ভার থেকে ডেটা টানে; জিজ্ঞেস করুন কতক্ষণ পরপর, কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে, আর শাখার সার্ভার বন্ধ থাকলে কী হয়।

হাইব্রিড POS-এ প্রতিটি শাখা নিজে নিজে বিল করে, আর হেড অফিস প্রায়-রিয়েল-টাইমে সব একসাথে দেখে: শাখাভিত্তিক স্টক, আউটলেটের লাভ-ক্ষতি, অনুমোদনসহ ট্রান্সফার, কেন্দ্র থেকে ঠিক করা দাম আর অফার যা পরের সিঙ্কে প্রতিটি কাউন্টারে পৌঁছায়। বিনিময়ে উপরে বলা সিঙ্কের গোলমাল সামলাতে হয়, আর শাখা যত বেশি, সেটা তত জরুরি। MondayPOS-এ একাধিক শাখা কীভাবে চলে

দুইটি সাংঘর্ষিক রেকর্ড মিলিয়ে একটি সারিতে বসানোর অলংকরণ।

কোন দোকানের জন্য কোনটা

ন্যায্যভাবে বললে:

শুধু-ক্লাউড আপনার জন্য, যদি আপনার নেট নির্ভরযোগ্য আর ব্যাকআপসহ হয় (দুটো ISP, বা ফাইবারের সাথে 4G ফেইলওভার রাউটার), UPS বা IPS নেটওয়ার্কের যন্ত্রও টানে, বিলের চাপ কম তাই দশ মিনিটের বিরতি লাইন নয় শুধু অসুবিধা, আর দোকানে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকাটা আপনার কাছে সবার উপরে। বিল্ডিংয়ের পাওয়ার ব্যাকআপওয়ালা শপিং মলের ক্যাফে, ঘণ্টায় হাতে গোনা কয়েকটা বিলের বুটিক, আর ছোট কাউন্টারওয়ালা অনলাইন-নির্ভর ব্যবসা প্রায়ই এখানে পড়ে।

শুধু-অফলাইন আপনার জন্য, যদি আপনার এক দোকান, দ্বিতীয়টার পরিকল্পনা নেই, মালিক নিজে ব্যাকআপ সামলাতে স্বচ্ছন্দ, আর এককালীন কেনা পছন্দ। অনেক পুরনো ফার্মেসি আর হার্ডওয়্যারের দোকান বছরের পর বছর এভাবে ভালোই চলে।

হাইব্রিড আপনার জন্য, যদি আপনি সারাদিন একটানা বিল করেন, আপনার নেট বাংলাদেশের সাধারণ ব্রডব্যান্ড, এক বা একাধিক শাখা চালান বা চালানোর পরিকল্পনা আছে, আর সার্ভার রুম ছাড়াই হেড অফিসের রিপোর্ট চান। এটাই বেশিরভাগ সুপারশপ, ফার্মেসি চেইন, পোশাকের দোকান, ইলেকট্রনিক্স আর রেস্টুরেন্ট, আর এদের জন্যই MondayPOS বানানো। POS অফলাইনে কীভাবে চলে দেখুন।

ডেমোতে যা জিজ্ঞেস করবেন

প্রতিটি ভেন্ডরের উপর চালান, আমাদের উপরেও, আর স্ক্রিন দেখুন।

  1. 1রাউটার খুলে দিন। পাঁচটা পণ্য স্ক্যান করুন, একটা বিকাশ পেমেন্ট নিন, মূসক ৬.৩ চালান প্রিন্ট করুন। এবার রাউটার লাগান। হেড অফিসে বিলটা দেখান।
  2. 2অফলাইন থাকতে দুই কাউন্টারে একই পণ্যের শেষ পিস বিক্রি করুন। সিঙ্কের পর স্টক কী বলে, সতর্কবার্তা কোথায়?
  3. 3কাউন্টার অফলাইনে বিল করতে থাকুক, হেড অফিস থেকে দাম বদলান। রসিদ আর সিঙ্ক হওয়া রেকর্ড দুটোই দেখান।
  4. 4তিন কাউন্টারে চালান নম্বর কীভাবে হয়? দুই কাউন্টারে কখনো এক নম্বর পড়তে পারে?
  5. 5বিলের মাঝখানে কাউন্টারের PC-র পাওয়ার কর্ড টেনে খুলুন। আবার চালু করুন। কী হারাল?
  6. 6পুরো ডেটা এক্সপোর্ট করে দেখান, আর যেদিন ছেড়ে যাব সেদিন ডেটা নিতে কত লাগবে বলুন।
  7. 7আপনার সিস্টেমে UPS-এ ঠিক কী কী থাকতে হবে: PC, প্রিন্টার, রাউটার, ONU, আর কিছু?
  8. 8তিন শাখার জন্য: এই মুহূর্তের একসাথে স্টক আর আউটলেটের লাভ-ক্ষতি দেখান, আর ডেটা কত পুরনো বলুন।

শেষ কথা

ক্লাউড POS চালানো সবচেয়ে সহজ, সত্যের একটাই কপি, কিন্তু কাউন্টার চলবে কি না সেটা আপনার ISP-র হাতে। অফলাইন POS সবচেয়ে স্বাধীন, আর নিরাপদ রাখতে সবচেয়ে বেশি খাটুনি। হাইব্রিড লোডশেডিং আর নেট কাটার মধ্যেও কাউন্টারে বিল চালু রাখে, হেড অফিসও সব দেখে, বিনিময়ে সিঙ্কের গোলমাল ঠিকমতো সামলাতে হয়। বাংলাদেশে, আমাদের যে কারেন্ট আর ব্রডব্যান্ড আছে তাতে, সারাদিন বিল করে বা একাধিক শাখা আছে এমন যে কোনো দোকানের জন্য হাইব্রিডই স্বাভাবিক উত্তর; কম-চাপের কাউন্টারে ব্যাকআপ নেটসহ শুধু-ক্লাউড যুক্তিসঙ্গত পছন্দ।

উপরের ৮টি প্রশ্ন আপনার নিজের পণ্যে MondayPOS-এর উপর চালাতে চাইলে ডেমো বুক করুন অথবা ফ্রি শুরু করুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ক্লাউড POS আর অফলাইন POS-এর পার্থক্য কী?
ক্লাউড POS ডেটা রাখে কোম্পানির সার্ভারে, প্রতিটি বিলে নেট লাগে। অফলাইন POS সব রাখে দোকানের PC বা সার্ভারে, নেট ছাড়া চলে, কিন্তু ব্যাকআপ আর হেড অফিসের রিপোর্ট আপনাকে সামলাতে হয়।
হাইব্রিড বা অফলাইন-ফার্স্ট POS কী?
যে সিস্টেম কাউন্টারে পুরো একটা চালু কপি রাখে, সেখান থেকে বিল করে, আর নেট থাকলেই ক্লাউডে সিঙ্ক করে। কাউন্টার কখনো নেটের জন্য বসে থাকে না; হেড অফিস সিঙ্কের পর ডেটা দেখে। MondayPOS এভাবে কাজ করে।
বাংলাদেশে লোডশেডিংয়ে ক্লাউড POS চলে?
PC, প্রিন্টার, রাউটার আর ONU সব ব্যাটারি ব্যাকআপে থাকলে, আর ISP নিজে চালু থাকলে চলে। যে কারণেই নেট গেলে বেশিরভাগ ক্লাউড POS-এ নতুন বিল শুরু করা যায় না; কিছুতে সীমিত ব্রাউজার-ক্যাশ অফলাইন মোড আছে, রাউটার খুলে পরীক্ষা করুন।
অফলাইনে দুই কাউন্টারে একই শেষ পণ্য বিক্রি হলে হাইব্রিড POS কী করে?
দুটো বিক্রিই হতে দেওয়া উচিত, সিঙ্কের পর মাইনাস স্টক লিখে রাখা উচিত, আর কোনো বিল চুপচাপ না বদলে মিলানোর রিপোর্টে ফ্ল্যাগ করা উচিত। ভেন্ডরকে এই ঘটনাটা দেখাতে বলুন।
POS কাউন্টারের জন্য কোন UPS লাগবে?
PC, মনিটর আর থার্মাল প্রিন্টারের জন্য ৬৫০–১২০০ VA লাইন-ইন্টারঅ্যাকটিভ UPS সাধারণত ১০–৩০ মিনিট দেয়; ২০২৬ সালের আগস্টে Star Tech আর Ryans-এ দাম মোটামুটি ৳৩,৪০০–৭,০০০। ক্লাউড POS হলে রাউটার আর ONU-ও UPS-এ থাকতে হবে। ঘণ্টাখানেকের লোডশেডিংয়ে সফটওয়্যার যা-ই হোক, IPS বা জেনারেটর লাগবে।
হাইব্রিড POS কি ক্লাউড POS-এর চেয়ে দামি?
লাইসেন্সের দিক থেকে সাধারণত না; দুটোই বাংলাদেশে সাধারণত প্রতি আউটলেটে মাসে ৳১,০০০–৭,০০০-এর সাবস্ক্রিপশন। হাইব্রিডে ব্যাটারি ব্যাকআপে কম নেটওয়ার্ক যন্ত্র লাগে আর বিপদে কম বিক্রি হারায়, ব্যস্ত দোকানে এটা দামের ছোটখাটো পার্থক্যের চেয়ে বেশি ওজনের।

নিজের কাউন্টারে চালিয়ে দেখুন.

একটি আউটলেট নিয়ে ফ্রি শুরু করুন, অথবা নিজের প্রাইস লিস্ট নিয়ে ৩০ মিনিটের ডেমো বুক করুন।